আরও থুজুন

বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার যত গুন



সকালে কাঁচা ছোলা খাওয়ার যত গুন

Click here to get it English  The quantity of raw grams to eat in the morning. অনেকেই আছেন যারা ছোলা সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে কাঁচা খান যা শরীরের জন্য অনেক উপকার ও স্বাস্থ্যকর রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলাআমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয় কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। অনেকে কাঁচা ছোলা দেহের বডি গঠনে খেয়ে থাকেন।  ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ফসফরাস রয়েছ, এছাড়াও উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ অ্যান্টিবায়োটিক গঠন হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী স্বাস্থ্যবান বানায়।
আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিনপ্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি- বি- আছে।

১. রক্ত চলাচল: এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন / কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ে বা দেহের সকল আর্টারিতে  রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়
২. ডায়াবেটিসে উপকারী: ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ১৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং গ্রাম ফ্যাট বা তেল।  এছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি-, বি-, ফসফরাস ম্যাগনেসিয়াম।
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: কাঁচা ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয়, যে সকল অল্পবয়সী নারী বেশি পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খান, তাদের হাইপারটেনশনের প্রবণতা কমে যায়।  এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও ব্যাপকভাবে সহায়তা করে
৪. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজের চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণযা শরীরে প্রচুর পরিমানে শক্তি যোগায়।
৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন, বেশি পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে অ্যাজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়। আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্থ থাকুন
৬. মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে: এছাড়াও এতে ভিটামিনবি আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিনবিকমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়।
৭. কোলেস্টেরল: ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন খনিজ লবণছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়।
 ৮. রোগ প্রতিরোধ করে: কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে
৯. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিনসিএবং ভিটামিন বি- হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়
 ১০. যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালীতে জমে থাকা পুরনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই শুধু রমজান মাস নয়, ১২ মাসেই ছোলা হোক আপনার সঙ্গী
অস্থির ভাব দূর করে: ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়। সুতরাং হঠাৎ যদি দেহের মধ্যে অস্থির অনুভব হয়, তাহলে ছোলা খেয়ে নিতে পারেন। উপকার পাবেন

পরিশেষে বলা যায় যে, কাঁচা ছোলা আমাদের দৈহিক, মানসিক ও গুরুত্বপূর্ন অর্গানগুলো রক্ষা করতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। তাই আমরা প্রত্যেহ কাঁচা ছোলা খেতে পারি কি না????
 Click here to get it English



কোন মন্তব্য নেই: